মেহেরপুর সদর উপজেলায় শাপলা তুলতে গিয়ে বিলে ডুবে চার স্কুলশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মোমিনপুর বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শামীম হোসেন।
নিহতরা হলেন—অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা ও মিম, এবং চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রাফিয়া ও আলিয়া। তারা দুই আপন ভাই মজিবর রহমান ও শাহারুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে চার বান্ধবী একসঙ্গে মসুরিভাজা বিলে শাপলা তুলতে যায়। অনেক সময় পার হলেও তারা ফিরে না এলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার আগে স্থানীয়রা বিলের পানিতে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখে খবর দেন ফায়ার সার্ভিসে। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শামীম হোসেন জানান, প্রথমে স্থানীয়রা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। একজন নিখোঁজ থাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে বিলের একটি গভীর গর্ত থেকে শেষ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
বারাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) রেজাউল ইসলাম বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে তারা শাপলা তুলতে গিয়ে বিলের একটি গভীর গর্তে পড়ে নিখোঁজ হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি মেছবাহ উদ্দিন জানান, নিহত চার শিশুর কেউ সাঁতার জানত না। বিলে বিভিন্ন স্থানে পানির গভীরতা ভিন্ন হওয়ায় তারা বুঝে উঠতে পারেনি এবং ডুবে যায়।
ঘটনার পর মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া জাহান ঝুকার্সহ প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।
Rihan Hossain 











