যশোরের বিনোদিয়া পার্কে যুবক-যুবতীর একসঙ্গে কীটনাশক পানের ঘটনায় সাদিকুর রহমান (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত সাদিকুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মিয়া সুন্দরপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা মনিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সাদিকুর রহমান ও এক তরুণী পার্কে একসঙ্গে বিষপান করেন। তবে ওই তরুণীর সর্বশেষ অবস্থা এখনও জানা যায়নি।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সাদিকুর ও তরুণীটি বিনোদিয়া পার্কে একসঙ্গে কীটনাশক পান করলে স্থানীয় লোকজন তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সাদিকুরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় শুক্রবার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। আর মেয়েটি ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, বৃহস্পতিবার বিষপান করে এক ছেলে ও এক মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ছেলেটিকে রেফার্ড করা হলেও মেয়েটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি কোনো তথ্য ছাড়াই ওয়ার্ড থেকে চলে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদিকুর বিবাহিত ছিলেন। তার স্ত্রী ও ছয় মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এর মধ্যেই পাশের উপজেলার এক যুবতীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে তিনি যশোরের বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্কে যান। সেখানে তারা একসঙ্গে কীটনাশক পান করেন।
এদিকে, মৃত সাদিকুরের পিতা মনিরুল ইসলাম জানান, তার ছেলে সাদিকুর বিবাহিত এবং ঘরে ছয় মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্কে ছেলে ও তরুণীটি একসঙ্গে কীটনাশক পান করার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে তাদের খুলনায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সাদিকুরের মৃত্যু হয়। তবে তরুণীটি এখনও খুলনা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাদিকুরের মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে আসরের নামাজের পর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
Rihan Hossain 












